জেলা 

বারুইপুর কাণ্ডে চার্জশিট পেশ করল পুলিশ

শেয়ার করুন

বারুইপুর কাণ্ডে (Baruipur Case) চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। ঘটনার ৫৭ দিনের মাথায় বারুইপুর বিশেষ পকসো আদালতে ৭০২ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দিয়েছে সিট। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২), ১৪০(৩), ৬৫(১), ৭০(২), ১০৩(১), ২৩৮, ৬১ ধারা এবং পকসো আইনের ৬ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ৪ জনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। তারমধ্যে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের ইতিমধ্যেই এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকার ময়নাতদন্তে ধর্ষণ ও চরম নির্যাতনের প্রমাণ মিলেছে। মুখে ও শরীরের বিভিন্ন আঘাত, কামড় ও আঁচড়ের দাগ ছিল। নাবালিকাকে অচেতন অবস্থায় বস্তায় ভরে জলে ডুবিয়ে খুন করা হয়েছে বলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনা দ্রুত তদন্তের জন্য সিট গঠন করা হয় পুলিশের তরফে। তদন্ত শুরু হয়, অবশেষে আজ, বৃহস্পতিবার চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। পরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ হতে পারে খবর।

উল্লেখ্য, বারুইপুরের ঘটনাটি ঘটে ৫ জুলাই। ধপধপি-২ পঞ্চায়েতের সূর্যপুরের বাসিন্দা ১২ বছরের নাবালিকা বিকালে খাবার কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। ৬ জুলাই ভোরে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযোগ জানায়, ৪-৫ জন যুবক তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করেছে। তদন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। সেখানে দেখা যায়, শেষবার প্রভাস মণ্ডলের সঙ্গে ওই নাবালিকাকে দেখা যায়। ঘটনা শুরুতেই পুলিশ প্রভাস-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারপর ঘটনার পুনর্নিমাণের সময় পুলিশের বন্দুক ছিনিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের এনকাউন্টারে মৃত্যু হয় প্রভাসের। সেই ঘটনার আলাদা তদন্ত চলছে।

এ ছাড়াও নাবালিকার মৃত্যুর খবর চাউর হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সেই দিনই পিটিয়ে মারা হয় এক যুবককে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর পুলিশকে আক্রমণ ও বেশ কিছু বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ভাঙচুর করা হয়। সেই ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা এখনও জেল হেফাজতে রয়েছে। জানা যাচ্ছে, দ্রুত বাকি বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ